দ্য সিভিলিয়ানস । আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রামনগর এলাকার পুছড়িতে ভোরের মৃয়মাণ আলোয় চালানো এক উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত ৯০টি মুসলিম পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় নারী শিশু ও বয়স্কদের মানবেতর অবস্থায় রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, তারা বৈধভাবে জমি কিনে বসবাস করছিলেন এবং মালিকানার কাগজপত্রও রয়েছে। তবে অভিযানের সময় কেবল মুসলিম পরিবারগুলোর ঘরবাড়িই ভাঙা হয়। আশপাশের হিন্দু বসতিগুলো অক্ষত থাকায় উচ্ছেদটি পরিকল্পিত ও বাছাই করা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ভাঙা ঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছেন বাসিন্দারা। ৬০ বছর বয়সী বিধবা খুরশিদ বলেন, শীতের কাপড় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। তিন সন্তানের মা সীমা জানান, আপাতত মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ আশ্রয় নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে তথ্য গোপনের চেষ্টা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে উচ্ছেদের একটি দৃষ্টান্ত।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শীতকালে জোরপূর্বক উচ্ছেদ না করার বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা এই অভিযানে লঙ্ঘিত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও একে বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
উচ্ছেদের আশঙ্কায় এলাকায় বসবাসকারী মুসলিম পরিবারগুলো এখন ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের ভাষায়, তাদের একমাত্র অপরাধ, তারা মুসলিম ও তাদের ধর্মীয় পরিচয়।
