দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আগামী শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র গ্রহণের পর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন দিনেশ ত্রিবেদী। গত এপ্রিলের শেষ দিকে তাকে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি।
দিনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘ সময় পর কোনো সক্রিয় রাজনৈতিক পটভূমির ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ভারতীয় পররাষ্ট্র ক্যাডারের কূটনীতিকরাই এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
পঁচাত্তর বছর বয়সী দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে সুপরিচিত একটি নাম। তিনি দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় অংশ তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে দলটি থেকে পদত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্বের প্রতিফলন হতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য, সংযোগ, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সম্পর্ককে নতুন করে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক ইস্যুতেও নতুন গতি আসতে পারে।
দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
