লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

খাদ্য নিরাপত্তায় বড় উদ্যোগ, শস্য সংগ্রহ ও গুদাম সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার

প্রকাশিত: 11 জুন 2026

13 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং সরকারি গুদামের ধারণক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বর্তমান ২৩ দশমিক ১৬ লাখ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজার অস্থিরতা কিংবা বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের সময় খাদ্য মজুত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ দশমিক ১৯ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪১ দশমিক ২৯ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে দেশের ৫৫ লাখ উপকারভোগী পরিবারকে কর্মসংস্থান কম থাকার সময় বছরে ছয় মাস ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাজেট বক্তৃতায় আরও জানানো হয়, সারাদেশে এক হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দেশের ৪১৯ উপজেলায় অতিরিক্ত উন্মুক্ত বাজার বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষ প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

খাদ্য বাজারে স্বচ্ছতা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, খাদ্যশস্যের বাজারদর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বাজার পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

কৃষি ও খাদ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংগ্রহ কার্যক্রম সম্প্রসারণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক খাদ্য সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংগ্রহ কার্যক্রমের পাশাপাশি সংরক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা উন্নয়নও সমানভাবে প্রয়োজন। সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতায় এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman