দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বিভিন্ন দেশকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তাসনিমের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশের সরকারকে তেহরানে প্রতিনিধি না পাঠানোর জন্য সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে একটি নির্দেশনা পাঠান বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে জানাতে বলা হয়, খামেনির শেষকৃত্যে অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন ‘অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে এবং এর প্রভাব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে।
তাসনিম আরও দাবি করেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আরব কূটনীতিকের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আফ্রিকার কয়েকটি দেশে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে সতর্ক করেন যে, তারা অনুষ্ঠানে অংশ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক চাপের কারণে অন্তত ১৩টি দেশ শেষকৃত্যে প্রতিনিধি পাঠানোর পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে। এসব দেশের মধ্যে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
তাসনিমের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু দেশ পরবর্তীতে মধ্যস্থতাকারী বা জেনেভা ও নিউইয়র্কে অবস্থিত নিজেদের কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে ইরানের কাছে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। এছাড়া কয়েকটি দেশ তেহরানে অবস্থানরত নিজেদের কূটনীতিকদের অনুষ্ঠানে পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও ইরান তা গ্রহণ করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তেহরানে অবস্থান করছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
খামেনির শেষকৃত্যকে ঘিরে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো মূলত ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি এবং আন্তর্জাতিক স্বাধীন সূত্রে দাবিগুলোর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। তাই বিষয়টি একটি অযাচাইকৃত দাবি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
