দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের বিতর্কিত বিদায়ের রেশ এবার পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন, ‘মিশরের সঙ্গে ডাকাতি করা হয়েছে।’ তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং চলমান রেফারিং বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় মিশরের একটি গোল বাতিল এবং কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর পর থেকেই মিশরের খেলোয়াড়, কোচ এবং ফুটবল ফেডারেশন রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কাছেও অভিযোগ জানিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বুধবার নিউইয়র্কে নগরীর গণপরিবহন উন্নয়নসংক্রান্ত একটি কর্মসূচি ঘোষণা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিশ্বকাপের সেই বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন মামদানি। দ্রুতগতির বাসসেবা চালুর ফলে নাগরিকদের সময় সাশ্রয়ের সুবিধা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে পারবেন। বন্ধুদের সঙ্গে একমত হতে পারবেন যে, গতকাল মিশরের সঙ্গে ডাকাতি করা হয়েছে।’ তাঁর এই মন্তব্য উপস্থিতদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি করলেও দ্রুতই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে এক সাংবাদিক রেফারিং বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করলে মামদানি আরও বলেন, যদি প্রথম গোলের আগে ফাউল ধরা হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি ম্যাচ পাতানো বা কোনো ষড়যন্ত্রের সরাসরি অভিযোগ করেননি।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে মতভেদ অব্যাহত রয়েছে। মিশর শিবিরের দাবি, ভিডিও সহকারী রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিপরীতে অনেক সাবেক রেফারি ও বিশ্লেষক মনে করছেন, বিতর্ক থাকলেও ম্যাচের সিদ্ধান্তগুলো ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি।
মামদানির মন্তব্যের পর বিশ্বকাপের রেফারিং বিতর্ক আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেও অন্যরা মনে করছেন, একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।
