দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চলমান বিশ্বকাপে মিসরের ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্বকাপে দলটির স্মরণীয় পারফরম্যান্সের পর এই সিদ্ধান্তকে দেশটির ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হ্যানি আবু রিদা এক বিবৃতিতে জানান, পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন হোসাম।
৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসান ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর অধীনেই দলটি ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সেমিফাইনালে পৌঁছায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো।

চলমান বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ে মিসর। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় উত্তর আফ্রিকার দলটি। পরে বেলজিয়াম ও ইরানের বিপক্ষে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে।
শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠে মিসর। ১৯৩৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর এই প্রথম দলটি শেষ ষোলোর গণ্ডি স্পর্শ করে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেষ ষোলোর ম্যাচেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে মিসর। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে বিদায় নিতে হয় মোহাম্মদ সালাহদের। বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগে ম্যাচটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিলেও মিসরের লড়াকু পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বিশ্বকাপে দলের শৃঙ্খলা, কৌশলগত উন্নতি এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা বিবেচনায় হোসাম হাসানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাঁর নেতৃত্বেই দলকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
খেলোয়াড়ি জীবনেও হোসাম হাসান মিসরের ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি। জাতীয় দলের হয়ে ১৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৯ গোল করে তিনি এখনও দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। কোচ হিসেবেও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা করছে মিসরের ফুটবল অঙ্গন।
