দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে সরকারি বনাঞ্চলের আশপাশে অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির চুল্লি গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। এসব চুল্লির কারণে একদিকে মূল্যবান বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবেশ, ফসল ও মানুষের স্বাস্থ্য।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সরকারি বনভূমি রয়েছে। এই বনাঞ্চলে গজারি, গর্জন, সেগুন, আকাশমনি ও পিকরাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় আশপাশের এলাকাতেও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধান অনুযায়ী বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লার চুল্লি স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালাচ্ছে। গায়রাবেতিল, নয়াপাড়া, বাঁশতৈল, বংশীনগর, আজগানা, কুড়িপাড়া, পাথরঘাটা, তরফপুর ও খাটিয়ার হাটসহ অন্তত ১৫টির বেশি এলাকায় শতাধিক চুল্লি সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব চুল্লিতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ টন কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছে, যা থেকে চোরাকারবারিরা লাখ লাখ টাকা আয় করছে।
কয়লা পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়ায় আশপাশের গাছপালা, ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাঁশতৈল-মির্জাপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, বন বিভাগের মোবাইল টিম নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক অবৈধ চুল্লি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
