দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকারের প্রেস উইং। রোববার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।
প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ম্যান্ডেট কেবল নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা থেকে রাষ্ট্রকে বের করে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ সেই সংস্কার প্রক্রিয়ারই অংশ। ফলে সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান নেওয়াকে নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন বলা বাস্তবসম্মত নয়।
পোস্টে বলা হয়, গণতন্ত্রে নেতৃত্ব মানে নীরব থাকা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে জনগণের সামনে যুক্তি তুলে ধরা এবং শেষ সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। গণভোটের বৈধতা নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীন মতপ্রকাশ, বিরোধী পক্ষের প্রচারের সুযোগ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত অক্ষুণ্ন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক নজির টেনে প্রেস উইং উল্লেখ করে, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, তুরস্ক, ফ্রান্সসহ বহু দেশে সরকারপ্রধানরা গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়নি। বরং একে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উদাহরণ ধরা হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, জেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমের উদ্দেশ্য জোরজবরদস্তি নয়, বরং সংস্কারের বিষয়বস্তু নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করা। উপসংহারে প্রেস উইং জানায়, এই সংকটময় সময়ে দ্বিধা নয়, স্পষ্ট নেতৃত্বই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। শেষ সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকবে, সেটিই গণতন্ত্রের প্রকৃত নিশ্চয়তা।
