লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ছয় সিটিতে প্রশাসক বিতর্ক, জামায়াতের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: 23 ফেব্রুয়ারী 2026

83 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এ প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং স্থানীয় সরকারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করবে। তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর দুই সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া সবাই দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন আবদুস সালাম। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তাঁর আগে দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুল হাসান।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক করা হয়েছে শফিকুল ইসলাম খানকে। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এর আগে দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান।

খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান। আর সিলেট সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। এর আগে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। তবে নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জামায়াতের অভিযোগ, দলীয় পদধারীদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে, এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি পদক্ষেপ হতে পারে।

দলটি অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল করে সিটি কর্পোরেশনসহ সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্থানীয় সরকার কাঠামোয় আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman