দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সহযোগিতায় অনাগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের প্রধান দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চান না; বরং কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা প্রশমনের পথেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ বৈঠকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল বলেন, পরিস্থিতি ও সামরিক লক্ষ্য সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস জানান, জার্মানি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না, যদিও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করা হতে পারে।
জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত ন্যাটোর আওতায় পড়ে না, কারণ ন্যাটো মূলত সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ড রক্ষার জোট। একই অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, দেশটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়াবে না, তবে মিত্রদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে।
ইতালি, গ্রিস ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ সামরিক মিশনে অংশ নেওয়া কঠিন বলে জানিয়েছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়লেও ইউরোপ এখনো সংঘাতে সরাসরি জড়ানোর ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয়।
ইউরোপের অবস্থান ইঙ্গিত করছে, পশ্চিমা জোটের ভেতরেই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে কৌশলগত বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
