দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সংসদীয় কূটনীতির ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি উঠে আসে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ এর সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে একটি দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যা আজও বহমান।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ঐতিহাসিক ও জনগণের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি পদে মনোনয়নে ভারতের সমর্থনকে তিনি এই সহযোগিতারই প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।
স্পিকার আরও বলেন, বর্তমান সংসদ কার্যক্রমে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করছে। এই প্রেক্ষাপটে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ, প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, প্রণয় ভার্মা বলেন, সংসদীয় কূটনীতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সফর বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদীয় কূটনীতি একটি নতুন কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি সরকারিভিত্তিক কূটনীতির পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
