দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এর বিরুদ্ধে করা হত্যা, হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের একাধিক মামলায় দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা ১২টি মামলাতেই জামিন কার্যকর রয়েছে। আইনজীবীদের মতে, এতে তার কারামুক্তিতে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই।
রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এপিলিয়েড ডিভিশন পৃথক পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আরও পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের ওপর পূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন আদালত।
আইনজীবীরা জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে প্রথম ধাপের পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের জামিন বহাল থাকছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপের পাঁচ মামলায়ও হাইকোর্টের দেওয়া জামিন কার্যকর হয়েছে। এর আগে আরও দুই মামলায় হাইকোর্ট আইভীকে জামিন দিয়েছিলেন এবং সেই জামিন এখনো বহাল রয়েছে।
সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গত বছরের ৯ মে ভোরে Narayanganj শহরের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট একাধিক মামলায় তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ এসব জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে কয়েকটি ক্ষেত্রে চেম্বার আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। তবে সর্বশেষ শুনানিতে আপিল বিভাগ সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান ও এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তার।
শুনানি শেষে আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমানে ১২ মামলাতেই আইভীর জামিন বহাল রয়েছে। ফলে তার কারামুক্তিতে এখন আর আইনগত কোনো বাধা নেই।”
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি টানা কয়েক মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ কারাবাস দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আদালতের ধারাবাহিক জামিন আদেশ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনি ভারসাম্য ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। তবে মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান থাকায় ভবিষ্যতে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
