দশ বছর ধরে লালন করা বিশাল ষাঁড় বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন খামারি হামিদা
দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
টাঙ্গাইলের আলোচিত বিশালাকৃতির ষাঁড় ‘মানিক’ অবশেষে বিক্রি হয়েছে ১১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। স্থানীয়ভাবে এটি দেশের সবচেয়ে বড় গরুগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। প্রায় এক দশক ধরে লালন পালন করা এই গরুকে বিদায় দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন খামারি হামিদা আক্তার।
খামারসংশ্লিষ্টদের দাবি, ফিতার মাপে মানিকের ওজন দুই হাজার কেজির কাছাকাছি ধরা হলেও প্রকৃত ওজন কিছুটা কম হতে পারে। তবুও এটি ১৪০০ থেকে ১৭০০ কেজির মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেক অভিজ্ঞ খামারি। বাংলাদেশে এর আগে ২০১৯ সালে “রাজাবাবু” নামের আরেকটি বিশাল ষাঁড় দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিল।
খামারি হামিদা জানান, মানিক ছিল তার ঘরের গাভির বাছুর। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি গরুটি লালন পালন করেছেন। সাধারণত এত বড় ও ভারী ষাঁড় দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা কঠিন হলেও মানিক ছিল স্বাভাবিক ও সুস্থ। তিনি কখনো গরুটিকে কসাই বা অন্য খামারির কাছে বিক্রি করতে চাননি। শুধু কোরবানির জন্য উপযুক্ত ক্রেতার অপেক্ষাতেই ছিলেন।
২০২১ সাল থেকেই মানিক বিক্রির চেষ্টা চলছিল। কয়েকবার উচ্চমূল্যে বায়না হলেও শেষ পর্যন্ত ক্রেতারা ফিরে আসেননি। একবার ১৮ লাখ টাকায় চূড়ান্ত হওয়ার পরও ক্রেতা গরু নিতে আসেননি বলে জানান হামিদা। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।
খামারির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১০ বছরে মানিকের পেছনে ৫০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। খাবার হিসেবে তাকে নিয়মিত ঘাস, কলা ও ভুষি দেওয়া হতো। কোনো ধরনের অতিরিক্ত ওষুধ বা অস্বাভাবিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মানিককে বড় করে তোলার পেছনেও রয়েছে আবেগঘন গল্প। হামিদা জানান, বহু বছর আগে তিনি একটি বিশাল গরু দেখতে গিয়ে জানতে পারেন টিকিট কেটে দেখতে হবে। সেখান থেকেই তার ইচ্ছা জন্মায় এমন একটি গরু পালবেন, যেটি সবাই বিনামূল্যে দেখতে আসবে। সেই স্বপ্ন থেকেই মানিককে বড় করে তোলা।
স্থানীয়দের কাছে মানিক ছিল শুধু একটি গরু নয়, বরং একটি আবেগের নাম। ঈদের আগে বিশাল এই ষাঁড় দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করতেন নানা এলাকা থেকে আসা মানুষ। অবশেষে প্রিয় গরুটিকে বিদায় দিতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি খামারি হামিদা।
