দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার, ভাসানটেক এলাকার মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না। তাঁদের বিরুদ্ধে ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সংঘটিত হামলা ও ভাঙচুরে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, হামলার পেছনে চাঁদাবাজির ঘটনা নয় বরং জমি নিয়ে বিরোধ কাজ করেছে। নিউ গিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে ওই এলাকার অন্য কয়েকজন জমির মালিকের বিরোধের সূত্র ধরে শনিবার রাতে একটি দল সেখানে যায়। আবাসন প্রকল্পের একটি প্রবেশপথ তৈরি করে অন্যদের চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ক্ষুব্ধ পক্ষটি রাতে সেখানে গিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। ওই ঘটনার মধ্যেই নিউ গিনি প্রপার্টিজের স্থাপনা এবং সেখানে ভাড়া নেওয়া সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সালমান মুক্তাদির নিউ গিনি প্রপার্টিজের একটি তলা ভাড়া নিয়ে ব্রাউনফিশ স্টুডিও পরিচালনা করছিলেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলার পর স্টুডিওর আসবাব, সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একটি বড় দল সেখানে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। কাছাকাছি আরও কয়েকটি স্থাপনাতেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল ভবনের মালিকপক্ষ এবং তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা বিরোধের কারণে হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ তদন্তে এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা পায়নি বলে জানিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক পক্ষ নিউ গিনি প্রপার্টিজ এবং অন্য পক্ষ অবসরপ্রাপ্ত একজন সামরিক কর্মকর্তা। বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা থেকেই রাতের হামলার সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। পরে তদন্ত ও অভিযানের ধারাবাহিকতায় আরও একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য আসে। ঘটনাটি নিয়ে একটি মামলা দায়েরের তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে মামলার সব ধারা এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত শেষে আরও স্পষ্ট হবে।
ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হামলার কারণ নিয়ে সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ভিন্নতা রয়েছে। সালমান চাঁদাবাজির আশঙ্কার কথা বললেও পুলিশ বলছে জমি নিয়ে বিরোধই ছিল মূল কারণ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলার তদন্তের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য এবং প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
