দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সিলেট ১৭ মে ২০২৬ : সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সকালে দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের দ্রুত দুই উইকেট এবং মেহেদি হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রুতে চাপে পড়ে পাকিস্তান। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৬ রান।
দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রণে। প্রথম সেশনের দ্বিতীয় ওভারেই তাসকিন আহমেদ আঘাত হানেন। অভিষিক্ত ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল ৯ রানে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পরই শর্ট লেগে মুমিনুল হকের দারুণ ক্যাচে ফেরেন আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস, যিনি ১৩ রান করেন।
এরপর পাকিস্তানের ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান মাসুদ এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজম। তবে সেই জুটি বেশি দূর এগোতে দেননি মিরাজ। ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন তিনি শান মাসুদকে ২১ রানে ফেরানোর মাধ্যমে। এরপর সৌদি শাকিলও থিতু হতে পারেননি, ৮ রানে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বাবর আজম ৩৭ রানে এবং সালমান আলি আগা ৬ রানে অপরাজিত আছেন। পাকিস্তান এখনও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭৮ রানের জবাবে ১৮২ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
এর আগে প্রথম দিনে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে অলআউট হয়। দিনের শেষ ভাগে পাকিস্তান উইকেট না হারিয়ে ২১ রান সংগ্রহ করে।
দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামে। তাসকিনের গতি ও শরিফুল ইসলামের লাইন লেন্থ পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখে। ফলে শুরুতেই উইকেট তুলে নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের শুরু বাংলাদেশের জন্য ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারে। বিশেষ করে পিচে সামান্য মুভমেন্ট থাকায় ফাস্ট বোলাররা সুবিধা পাচ্ছেন। তবে বাবর আজমের উপস্থিতি এখনো পাকিস্তানের জন্য বড় ভরসা হিসেবে রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষণে বিবিসি এবং ক্রিকইনফো বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছে, টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম সেশনের নিয়ন্ত্রণ অনেক সময় পুরো ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের এই বোলিং স্পেল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
