দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাজেট, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য ধরা হয়েছে ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’। এতে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, কৃষি উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে ১০টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার।
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পণ্যে কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের আশা, এতে বাজারে স্বস্তি ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কমবে।
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কর কাঠামো সহজ করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পরিকল্পনাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি করজাল সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে বড় অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে।
বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা পূরণে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা থাকবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি ও ভাতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও যুক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটটি আকারে বড় হলেও এর সাফল্য নির্ভর করবে রাজস্ব আহরণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতার ওপর।
সূত্রঃ বাসস
