পাড়া-মহল্লাজুড়ে চলছে পশু কোরবানি
দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে তৈরি হয়েছে ধর্মীয় আবহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় চলছে পশু কোরবানি, মাংস প্রস্তুত ও বিতরণের ব্যস্ততা। ঈদের জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানিতে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রামপুরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, উত্তরা ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে অনেকে যৌথভাবে কোরবানি দিচ্ছেন। কোথাও গরু, কোথাও ছাগল কোরবানি দিতে দেখা গেছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ছিল আলাদা উচ্ছ্বাস। নতুন পোশাক পরে তারা পশুর পাশে ঘুরে বেড়ায় এবং বড়দের কাজে সহায়তা করে।
রামপুরার বাসিন্দা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, এটি আত্মত্যাগ ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবারের সবাই মিলে কোরবানি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মিরপুরের বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, চারজন মিলে ভাগে গরু কোরবানি দিয়েছেন তারা। ঈদের নামাজ শেষে সকাল থেকেই মাংস কাটাসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আল্লাহ যেন আমাদের কোরবানি কবুল করেন।”
নারীদের মধ্যেও ছিল ব্যস্ততা। কেউ মাংস সংরক্ষণ, কেউ রান্না, আবার কেউ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে মাংস বিতরণে অংশ নেন। অনেক এলাকায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝেও কোরবানির মাংস বিতরণ করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে রাজধানীজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাইরা। সকাল থেকেই একের পর এক বাসা ও মহল্লায় গিয়ে পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজ করছেন তারা। কসাই রিপন মিয়া বলেন, ঈদের দিনই তাদের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সকাল থেকে টানা কাজ করছেন এবং অন্তত সাতটি গরু জবাইয়ের কাজ হাতে রয়েছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাগরিকদের নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক সম্প্রীতি ও ত্যাগের শিক্ষায় রাজধানীবাসী এবারও উদযাপন করছেন পবিত্র ঈদুল আজহা।
