দেশ-জাতির কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত
দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মুসল্লি।
প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মুফতি মো. আবদুল মালেক। নামাজ শেষে দেশ-জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং ফিলিস্তিন ও ইরানে নির্যাতিত মানুষের জন্য দোয়া করা হয়।
মোনাজাতে সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্যও দোয়া করা হয়। এছাড়া সকল মুসলমানের গুনাহ মাফ এবং মৃতদের কবরের আজাব মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
খুতবায় মাওলানা আবদুল মালেক আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের শিক্ষা তুলে ধরে “মনের পশুকে জবাই” করার আহ্বান জানান। তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়ন, মানবিকতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এবার জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। ১২১টি কাতারে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, প্রবেশপথ ও ওজুর ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ৩ হাজার নারীর জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ঈদগাহের অবকাঠামো প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা হয় ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ, প্রায় ১৫ টনের বেশি রশি এবং ১ হাজার ৯০০টি ত্রিপল। গরমের কথা বিবেচনায় রাখা হয় ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্যান। পুরো মাঠজুড়ে কার্পেট বিছানো হয় এবং বিশেষ অতিথিদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাও রাখা হয়।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মুসল্লিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য পৃথক গেট নির্ধারণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কয়েক স্তরের তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেন।
