লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা, প্রধান সন্দেহভাজন আটক

প্রকাশিত: 19 মে 2026

22 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাসার পাশের ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয় শৌচাগার থেকে এবং দেহের বাকি অংশ পাওয়া যায় খাটের নিচে।

পুলিশ জানায়, সোহেল রানা ওই কক্ষে দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, তিনি শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তবে তার স্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, অভিযুক্তকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিহত রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ রামিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে তার একটি জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বহুবার দরজায় কড়া নাড়ার পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একই ভবনে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড তাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর জীবনে পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অপরাধপ্রবণতা এবং মানসিক অস্থিরতা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবাসিক এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, ভাড়াটিয়া যাচাই এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman