দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম টানা ২৫ ঘণ্টা ধরে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের দুর্বিষহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। এদিকে অবরোধের মধ্যেই উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য নাশতা পাঠিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্য বলেন, তাঁরা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে। আগের রাতটিও তাঁদের কষ্টের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য।
তিনি আরও বলেন, ওই মুহূর্তে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই তিনি। প্রশাসনের প্রতিনিধিরা আসার পর হয়তো কথা বলতে পারবেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার দুপুরের দিকে অবরুদ্ধ উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নাশতা পাঠান। এর আগে সকালেও তাঁদের জন্য খাবার পাঠানো হয়েছিল। তবে খাবার পাঠানোর মধ্য দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার বা পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চুয়েটে চলমান অচলাবস্থার সূত্রপাত উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাঁর পদত্যাগ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরদিন থেকে ক্যাম্পাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
গত সোমবার সকালে দীর্ঘ ২১ দিন পর প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তাঁর প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার সময়সীমা দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশপথে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর থেকে উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ভবনের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্যের নিয়োগ তাঁরা মেনে নেননি। অন্যদিকে উপাচার্য তাঁর নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
অবরুদ্ধ অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাতেও উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ভবনের ভেতরে গিয়ে তাঁদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। অসুস্থতার কারণ হিসেবে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা, শারীরিক ক্লান্তি এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে উপাচার্যের অবরুদ্ধ অবস্থার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশও আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন।
দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত সংকটের সমাধান করতে হবে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল করতে হবে। অন্যদিকে অবরুদ্ধ উপাচার্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কোনো উদ্যোগ বা অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
