দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকা–১৩ আসন, বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ক্যাম্প এলাকা ও জেনেভা ক্যাম্পের মানুষের জীবন বহু বছর ধরে এক নীরব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে শুধু চাঁদাবাজি নয় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে গড়ে উঠেছে একটি অপরাধ জগৎ, এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের অদৃশ্য নিয়ম। দোকান খুলে রাখতে হলে চাঁদা দিতে হয়, গাড়ি চালাতে হলে দিতে হয় চাঁদা, এমনকি অনেক সময় নিরাপদে বসবাস করতেও দিতে হয় চাঁদা। মানুষ জানে এটি অন্যায়, কিন্তু তৈরী করা ভয় বাধ্য করে স্থানীয়দের চুপ থাকতে।
এই চাঁদাবাজির পেছনের বাস্তবতা খুব স্পষ্ট। জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের বহু গলিতে এখনো পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট নেই। রাত নামলেই অন্ধকার দখল নেয় এলাকা। বহু বাড়ি ও দোকানে বৈধ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ নেই, ফলে অবৈধ লাইন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরশীলতাই চাঁদাবাজদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের বেকারত্ব।
ঢাকা–১৩ এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ কাজ, প্রশিক্ষণ ও বিনোদনের সুযোগ না পেয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এই গ্যাংগুলোই পরে চাঁদাবাজি নেটওয়ার্কের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটেই ববি হাজ্জাজের প্রার্থিতা এখানে কি একটি ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারবে? প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্যাম্পবাসীদের আলোচনা করেছেন জনাব হাজ্জাজ, তাদের সমস্যাগুলো শুনেছেন তিনি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন তাঁর পক্ষ থেকে আন্তরিক চেষ্টা থাকবে এই সব সমস্যা সমাধানের এবং তিনি যদি নির্বাচিত হন তাহলে এলাকার সমস্যা দূরীকরণ ও জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা আরো গতিশীল হবে।
ববি হাজ্জাজের অবস্থান এখানে আলাদা। তিনি চাঁদাবাজিকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখছেন না; তিনি এটিকে শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন ব্যর্থতার ফল হিসেবে দেখছেন। তার প্রকাশিত এজেন্ডায় নাগরিক নিরাপত্তা, স্বচ্ছ সেবা, ছোট ব্যবসা পুনরুজ্জীবন, যুব কর্মসংস্থান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্যাম্পের জীবনমান উন্নয়ন এর বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে এসেছে।
বাস্তবতা হলো, উন্নয়ন সরাসরি অপরাধ কমায়। পর্যাপ্ত আলো থাকলে অপরাধ কমে, এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত। বৈধ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ থাকলে মানুষ আর চাঁদাবাজ বা অবৈধ কালেক্টরের হাতে জিম্মি থাকে না। সংগঠিত ও নজরদারির আওতায় থাকা বাজারে চাঁদাবাজি করা কঠিন হয়। যখন ব্যবসায়ীরা একা নয়, বরং সমবেত ও সংগঠিত থাকে, তখন চাঁদাবাজদের ঝুঁকি বাড়ে।
তরুণদের বিষয়টি আরও গভীর। ঢাকা–১৩ এলাকায় কিশোর গ্যাং কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়। কাজ নেই, খেলার মাঠ নেই, প্রশিক্ষণ নেই, সম্মানজনক আয়ের পথ নেই, এই শূন্যস্থানই কোমলমতি কিশোরদের কিশোর গ্যাং এর মতো ভয়াবহ অপরাধ প্রবণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন যদি খেলাধুলা, স্কিল ট্রেনিং, ডিজিটাল কাজ ও যুব সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি করা যায় তবে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব। এটি অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। স্লোগান দিয়ে গ্যাং দমন হয় না, সুযোগ দিয়ে গ্যাং অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে হয়।
এছাড়াও ঢাকা -১৩ আসনে সুশাসন নিশ্চিত করতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন। এই আসনের নাগরিকগণ বিনা কারণে হয়রানি থেকে মুক্ত থাকবেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি বদ্ধপরিকর।
এখন দেখার বিষয় ববি হাজ্জাজই চাঁদাবাজি বন্ধ ও জেনেভা ক্যাম্প উন্নয়নের সমাধান? যদি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হয় তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই, আর ঠিক এই জায়গাটাতেই কাজ করার সুযোগ চান জনাব হাজ্জাজ।
