দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশে সেন্ট্রাল পার্কে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির ফেইরিস হুইল ‘ঢাকা আই’। প্রায় ৯০ মিটার উচ্চতার এই বিনোদন স্থাপনাটি ঢাকার পূর্বপ্রান্তের নতুন দৃশ্যমান আকর্ষণ হিসেবে গড়ে উঠছে। এর নকশায় বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পর্যবেক্ষণচক্র লন্ডনের ‘লন্ডন আই’-এর আদল অনুসরণ করা হয়েছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকের সেন্ট্রাল পার্কে প্রায় ৪৭ বিঘা জায়গাজুড়ে একটি বড় বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এর প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ঢাকা আই’। নির্মাণাধীন ফেরিস হুইলটির মূল কাঠামোর কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রায় ৮২ মিটার ব্যাসের এই চাকার সঙ্গে থাকবে ৪৮টি কেবিন। প্রতিটি কেবিনে একসঙ্গে ছয়জন করে যাত্রী বসতে পারবেন। ফলে একবারে সর্বোচ্চ ২৮৮ জন দর্শনার্থী এতে চড়তে পারবেন। একটি পূর্ণ চক্কর দিতে সময় লাগবে প্রায় ২০ মিনিট। কেবিনগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং এতে আসন, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিরাপদ দরজার ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে।
৯০ মিটার উচ্চতা থেকে দর্শনার্থীরা ঢাকার বিস্তৃত নগরদৃশ্য দেখার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে রাজধানীর আলোঝলমলে দৃশ্য উপভোগের জন্য এটি নগরবাসীর কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি কবে খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
‘ঢাকা আই’ অবশ্য পুরো প্রকল্পের একমাত্র আকর্ষণ নয়। প্রায় ৪৭ বিঘা এলাকাজুড়ে নির্মাণাধীন বিনোদনকেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের রোমাঞ্চকর ও পারিবারিক বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকছে রোলার কোস্টার, স্পাইডার হুইল ও ড্রপ টাওয়ার। শিশুদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে আলাদা ইনডোর খেলাধুলার জায়গাও।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রোলার কোস্টারটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম উঁচু রোমাঞ্চকর রাইড হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে প্রকল্পটি শুধু একটি ফেরিস হুইলকেন্দ্রিক বিনোদনস্থল না হয়ে পরিবার, শিশু ও রোমাঞ্চপ্রেমী দর্শনার্থীদের জন্য সমন্বিত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।
ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে উন্মুক্ত বিনোদন ও অবকাশের জায়গার সংকট দীর্ঘদিনের। এই বাস্তবতায় বসুন্ধরার নতুন বিনোদনকেন্দ্রটি চালু হলে নগরবাসীর জন্য নতুন একটি অবকাশস্থল তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ‘ঢাকা আই’ রাজধানীর ওপর থেকে নগরদৃশ্য দেখার একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ৩০০ ফুট সড়কের পাশে সেন্ট্রাল পার্কে বিশাল চাকাটি ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। নির্মাণ শেষ হলে এটি ঢাকার পূর্বপ্রান্তের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
