লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ঢাকায় পাকিস্তানের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, গুরুত্ব পেল আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক

প্রকাশিত: 14 অগাস্ট 2026

38 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । খন্দকার আজিজুর রহমান ।

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের চ্যান্সারি প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আয়োজন ও প্রবাসী পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সমাবেশের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবারের আয়োজনে পাকিস্তানি প্রবাসী, শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কূটনৈতিক মহল ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশন প্রাঙ্গণে অতিথিদের উপস্থিতি শুরু হয়। প্রবেশপথেই ছিল পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবন ও পাকিস্তান আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। পাকিস্তান হাইকমিশন ঢাকায় জাতীয় দিবসের আয়োজনে এর আগেও জিন্নাহকে ঘিরে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এ সময় বাজানো হয় পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত। পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তে উপস্থিত সবাই নীরব শ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানান।

পতাকা উত্তোলনের পর অনুষ্ঠানের মূল পর্বে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। শুরুতেই তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দারের স্বাধীনতা দিবসের বার্তা পড়ে শোনান।

রাষ্ট্রনেতাদের বার্তায় পাকিস্তান আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পাকিস্তানের জনগণের দৃঢ়তা, ঐক্য ও সহনশীলতার প্রশংসা করা হয়। ১৪ আগস্ট ২০২৬ পাকিস্তানের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

মূল বক্তব্যে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি নাগরিকদের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্বের গুরুত্বের পাশাপাশি পাকিস্তানের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রত্যয় তুলে ধরেন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গে হাইকমিশনার হায়দার সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্পাদিত প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা মক্কা চুক্তি নামে পরিচিত, তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন, যা জাতীয় ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা এবং ঐক্য ও দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অঙ্গীকারের প্রমাণ বহন করে। চুক্তিতে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে সমন্বয়, যৌথ মহড়া এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ–পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও অনুষ্ঠানে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগও বাড়ছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ করছেন।

কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ভারতীয় অবৈধ দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের চলমান সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানান।

পাকিস্তানের শান্তি, অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি বিশ্বের নিপীড়িত ও মুক্তিকামী মানুষের জন্য বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হয়। পরে আয়োজিত কমিউনিটি সংবর্ধনায় অতিথি, প্রবাসী পাকিস্তানি এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ঢাকার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার আকাঙ্ক্ষাও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, শিক্ষা, তরুণদের যোগাযোগ ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman