দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রায় ১৫০ জন পর্যটক নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণে যাওয়া প্রায় ৬০০ পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের খাগড়াছড়ি রিজিয়ন (২০৩ পদাতিক ব্রিগেড)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় বাঘাইহাট জোন (১৪ ইস্ট বেঙ্গল) উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু করে।
বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর সদস্যরা ভেলা ও নৌকার সাহায্যে পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পার করে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখান থেকে তাদের নিরাপদে জেলা সদরসহ নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ফিরে আসেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাজেকে আটকে থাকা বাকি পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া ও সড়ক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে যাতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সাজেক বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সেখানে যাতায়াতের প্রধান সড়ক প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
