লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ইতালি, কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মেলোনি

প্রকাশিত: 10 জুলাই 2026

8 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে ইতালি অংশ নেবে না বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেছেন, রোমের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। ইতালি সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সংকটের সমাধান দেখতে চায়।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জর্জিয়া মেলোনি এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইতালির নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং দেশটি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।

মেলোনি বলেন, ‘ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেব না।’

তবে তিনি জানান, ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত ইতালীয় সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়মূলক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে তিনি প্রতিরক্ষামূলক বলে উল্লেখ করেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট আরও বিস্তৃত হলে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে কারণে উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে তার সরকার।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমানকে ইতালির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দেয়নি রোম। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালির অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ঘিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে অধিকতর সামরিক সহযোগিতা চেয়ে আসছে। তবে ইতালির পাশাপাশি জার্মানি, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ না নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশগুলো আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সংযম এবং আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের কয়েকটি দেশের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও তুলে ধরছে। একই সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman