লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

প্রকাশিত: 10 জুলাই 2026

4 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এ দুর্যোগে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র এবং প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবল স্রোতের পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়ি, স্থানীয় সড়ক এবং ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরের ভেতর কোমরসমান পানি উঠে যাওয়ায় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে অনেকে উঁচু স্থানে সরে যান। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও পর্যাপ্ত সময় পাননি। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ বন্যার পানি প্রবেশ করায় শিশু, নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman