লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

সংসদে কোটিপতি ৭৯ শতাংশ, কমেছে সত্যিকারের রাজনীতিবিদ: টিআইবি

প্রকাশিত: 16 ফেব্রুয়ারী 2026

22 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রায় ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ সদস্য কোটিপতি বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৩৬ জন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য হিসেবে কোটিপতি এবং ১৩ জন শতকোটিপতি।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্যদের প্রায় অর্ধেকের দায় বা ঋণ রয়েছে। মোট দায়ের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা গত চারটি সংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ। দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপিতে ঋণগ্রস্ত সদস্যের হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।

পেশাগত দিক থেকে এবারও ব্যবসায়ী প্রার্থীরাই এগিয়ে। প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী পেশার। যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এ হার ৫ শতাংশ কমেছে, তবে নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে পেশায় রাজনীতিবিদের সংখ্যা সবচেয়ে কমে গেছে।

নারী প্রতিনিধিত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংসদে নারীর হার মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের তুলনায় অর্ধেক এবং সর্বনিম্ন।

এবারের সংসদ তুলনামূলকভাবে তরুণ। প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন ২০৯ জন বা ৭০ শতাংশ সদস্য। সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাও প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ সদস্য স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা তার ঊর্ধ্ব ডিগ্রিধারী; এর মধ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ৪৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৯ শতাংশ প্রার্থী ৫৮টি বিধানের মধ্যে কোনো না কোনোটি লঙ্ঘন করেছেন। অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণা ব্যয়ে নির্ধারিত সীমা ব্যাপকভাবে অতিক্রমের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সীমার তুলনায় ব্যয় ১৯ শতাংশ থেকে ৩২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে লঙ্ঘনের মাত্রা বেশি বলে দাবি টিআইবির।

সংস্থাটি বলেছে, নির্বাচন সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হলেও আচরণবিধি প্রতিপালন, অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার, এবং সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। রাজনৈতিক সহিংসতা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman