দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ও এসআই নয়নকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে ১০ বছর এবং সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পলাতক দুই সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার আরও কয়েকজন আসামির বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে এবং কয়েকজন খালাস পেয়েছেন।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকায় ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলের সময় পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের লাঠিচার্জ ও গুলিতে তিনি নিহত হন। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ এবং হত্যাকাণ্ডটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয়েছে। মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও ছিলেন।
গত বছরের আগস্টে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি, যুক্তিতর্ক এবং ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপনের পর ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।
গণআন্দোলন সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
