লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

কাতারে আটকে পড়েছে আফগান শরণার্থী, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ

প্রকাশিত: 19 মার্চ 2026

32 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

কাতারের দোহায় অবস্থিত সাবেক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প আস সাইলিয়ায়ায় আটকে পড়া শতাধিক আফগান শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সরিয়ে নেওয়া এসব আফগান নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় পুনর্বাসনের অপেক্ষায় ছিলেন।

শরণার্থীদের একজন, ছদ্মনাম ‘আলিয়া’, জানান তিনি ১৮ মাস ধরে ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া তার জন্য নিরাপদ নয়, কারণ তিনি তালেবান শাসনের আগে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতেন এবং নারীর অধিকারসংক্রান্ত মামলায় যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখন সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন ‘অপারেশন অ্যালাইজ ওয়েলকাম’ কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো আফগানকে সরিয়ে নেয়। কিন্তু চলতি বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শরণার্থী প্রক্রিয়া স্থগিত ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির পর পুনর্বাসন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। মার্চের মধ্যে ক্যাম্পটি বন্ধ করার ঘোষণায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

বর্তমানে ক্যাম্পে প্রায় ১,১০০ আফগান অবস্থান করছেন। তারা দাবি করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার কারণে কাতারে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে, কারণ ক্যাম্পটি আল উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছাকাছি।

আফগান পুনর্বাসনে কাজ করা সংগঠন আফগান ইভাক -এর প্রধান শন ভ্যান্ডিভের বলেন, এই মানুষগুলো সাধারণ শরণার্থী নন; তারা যুক্তরাষ্ট্রের মিশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং সেই কারণেই এখন ঝুঁকিতে রয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, শরণার্থীদের জোরপূর্বক আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না এবং তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে কোন দেশে বা কবে তা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান যুদ্ধের দীর্ঘ দুই দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্ন এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

সূত্র: বিবিসি।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman