লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের শঙ্কায় চাপে বাংলাদেশের রপ্তানি, এডিবি’র সতর্কতা

প্রকাশিত: 10 জুলাই 2026

7 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন শুল্ক নীতির কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এডিবির প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক: জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক শুধু বাণিজ্য ব্যয় বাড়াবে না, বরং এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কার্যকর শুল্কহার গড়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এডিবি জানায়, প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় যেসব দেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) মূলত দুটি বিষয়কে সামনে রেখে নতুন শুল্ক নীতির মূল্যায়ন করছে। এর একটি হলো জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার রোধে বিভিন্ন দেশের কার্যকারিতা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৫৪টি দেশকে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার পর্যালোচনার আওতায় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান ও ভিয়েতনামসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

এডিবি আরও বলেছে, চলতি বছরের শুরুতে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশে কিছুটা স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা গেলেও ইউএসটিআরের সাম্প্রতিক তদন্ত ও সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে শুল্কের হার, পরিধি এবং কার্যকরের সময়সূচি এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে তৈরি পোশাক খাতের ওপর, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগান দেয়।

তাদের মতে, সম্ভাব্য এই ঝুঁকি মোকাবিলায় শ্রম অধিকার, কর্মপরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স আরও জোরদার করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংলাপ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণেও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে একটি বাজারের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব হয়।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman