লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

জেন-জি এর আন্দোলনে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে ফ্রান্স, পুলিশের দিকে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ, আটক ৫৬৫

প্রকাশিত: 01 নভেম্বর 2026

5 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, অসমতা ও পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদে তৃতীয় সপ্তাহান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর প্যারিসসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে আয়োজকদের দাবি, সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৫ লাখ। এর মধ্যে প্যারিসে সরকারের হিসাবে ৭০ হাজার ও আয়োজকদের হিসাবে ২ লাখ মানুষ অংশ নেন।

প্যারিসে মলোটভ ককটেল হামলা
প্যারিসের দক্ষিণপূর্ব প্রান্তের পোর্ত দ্য শারঁতোঁ এলাকায় বিক্ষোভ শেষে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত এক জেন্দার্মকে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে তিনি হালকা আহত হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ এ ঘটনাকে ‘হত্যাচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন।

প্যারিসে চার পুলিশ সদস্য ও এক জেন্দার্ম আহত হন। এর মধ্যে তিনজন মলোটভ ককটেলে পোড়া আহত হন। তবে আহত জেন্দার্ম হালকা আহত হয়েও দায়িত্বে ফিরে যান।

ফরাসি প্রসিকিউটররা ঘটনাটি নিয়ে ‘জনকর্তাদের ওপর হত্যাচেষ্টা’ মামলার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এ পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

বিক্ষোভের মূল চিত্র
তৃতীয় সপ্তাহান্তের এই বিক্ষোভে মূলত শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। তাঁরা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবনতি, অসমতা ও পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদ জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনিয়েজ বলেন, প্রায় ১৫০টি ঘোষিত বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু উগ্রপন্থী দল মিছিলের শেষ পর্যায়ে সহিংসতা ছড়াতে চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, বোর্দো, তুলুজ ও মার্সেইসহ কয়েকটি শহরে উগ্রপন্থীরা শহরের কেন্দ্রে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টা করেছে। তবে বড় ধরনের দাঙ্গা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিরাপত্তায় ৭০ হাজার সদস্য
হ্যালোইনের রাতে বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি থাকায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্দার্ম মোতায়েন করা হয়। প্যারিসে রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত আংশিক কারফিউ জারি করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, হ্যালোইনের মুখোশ ব্যবহার করে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে ১৫০ ইউরো জরিমানা করা হবে। তিনি বলেন, রাতে সংঘর্ষের চেষ্টা করার সম্ভাবনা থাকলে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আগের সপ্তাহগুলোর তুলনা
১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। সেদিন দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরের সপ্তাহে ২৪ অক্টোবরের বিক্ষোভে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন এবং ১ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় কম থাকলেও সংঘর্ষের ঘটনা আবারও ঘটে। তবে এবার গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কম।

ইউরোপজুড়ে অস্থিরতা
ফ্রান্সের বাইরে জার্মানির বার্লিন ও ফ্রাঙ্কফুর্টেও রাতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মুখোশ পরা কিছু বিক্ষোভকারী দোকানের সামনের কাচ ভাঙচুর করে এবং পুলিশের দিকে পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করে।

ইউরোপজুড়ে যুব নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, বেকারত্ব, আবাসন সংকট ও পুলিশি সহিংসতাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlemaç izletaraftarium24canlı maç izlemaç izletaraftarium24canlı maç izlemaç izleselçuk sportsselçuksportsjustin tvnetspor tv