দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তবতায় খাদ্যসংকট, সীমান্ত বন্ধ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও ঈদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পরিবারগুলো ঈদের আনন্দ বাঁচিয়ে রাখতে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উত্তর গাজার আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি বাড়িতে ৬০ বছর বয়সী সাত সন্তানের জননী Samira Touman মেয়েদের সঙ্গে বসে তৈরি করছেন ঐতিহ্যবাহী কা’আক ও মামুল বিস্কুট। চলতি বছর যুদ্ধবিরতির পর এটিই গাজার বাসিন্দাদের প্রথম ঈদ। রান্নার গ্যাস না থাকায় কাঠের আগুনে বিস্কুট বানাতে হচ্ছে তাদের, এমনকি ধ্বংস হওয়া ঘরের ভাঙা আসবাবও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, যুদ্ধের আগে ঘরভিত্তিক ছোট ব্যবসার মাধ্যমে নিয়মিত অর্ডার পেতেন। আধুনিক রান্নাঘর, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সবই ছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর সবকিছু হারিয়ে এখন প্রায় শূন্য থেকে নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ময়দা, সুজি, খেজুর পেস্ট, ঘি ও চিনির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আংশিকভাবে সীমান্ত খুললেও বাজারদর এখনো অনেক বেশি। তবু ঈদের স্বাদ ধরে রাখতে প্রতিবেশীরা অর্ডার দিচ্ছেন, যা পরিবারটির জন্য সামান্য আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কষ্ট সত্ত্বেও গাজার বহু পরিবার দ্বিধায় রয়েছে, সীমিত অর্থ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করবে নাকি ঈদের ঐতিহ্য বজায় রাখতে খরচ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও অনিশ্চিত সরবরাহব্যবস্থা গাজার মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও অনিরাপদ করে তুলেছে।
তবু আশাবাদ হারাতে চান না সামিরা। তার ভাষায়, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও মানুষ ঈদের আনন্দের ছোট্ট অংশটুকু ফিরে পেতে চায়।
