লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ভারতে পালিয়েছে: ডিএমপি

প্রকাশিত: 28 ডিসেম্বর 2025

35 Views

The Civilians News

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সালসহ আরও একজন ময়মনসিংহ দিয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়েছে।’

রোববার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব-পরিকল্পিত। ফয়সালসহ আরও একজন ময়মনসিংহ দিয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এর মধ্যে ছয় জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। দ্রুত এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিনই হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ ওরফে রাহুল ও মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখকে শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিক তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম সাভার, হেমায়েতপুর, আগারগাঁও, নরসিংদীতে অভিযান পরিচালনা করে। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএমপির একটি টিম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জব্দ আলামতের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন, ছোরা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বরপ্লেট, হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা, ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক ইত্যাদি।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, গ্রেপ্তারদের দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঘটনার পরপরই ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা থেকে সিএনজি করে আমিনবাজারে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে মানিকগঞ্জের কালামপুর যায়। সেখান থেকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাইভেটকারে করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছায়। আসামিদের চিহ্নিত করার আগেই তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। হালুয়াঘাটের আগে মুন ফিলিং স্টেশনে জনৈক ফিলিপ এবং সঞ্জয় তাদের গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ফিলিপ তাদের সীমান্ত পার করার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জনৈক পুত্তির কাছে হস্তান্তর করে। পুত্তি ট্যাক্সি ড্রাইভার সামীর কাছে তাদের হস্তান্তর করে। সামী মেঘালয় রাজ্যের তুরা নামক জায়গায় তাদের পৌঁছে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, তারা এরই মধ্যে পুত্তি ও সামীকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা সন্দেহ করি, আসামিরা অবৈধ ভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন ভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয় জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া চার জন ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে আমরা চার্জশিট দিতে সক্ষম হবো।’

হাদির হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে, এটা কীভাবে নিশ্চিত হলেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের আমরা অভিযুক্তদের ছবি দেখিয়েছি। তাদের ভাষ্যমতে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে।’

এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা আছে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারলে এর পেছনে কারা কারা কাজ করেছে সেটা আরও স্পষ্ট হতো। আমাদের কাছে কিছু তথ্য আছে, কিন্তু তদন্তের স্বার্থে আমরা সেই নামগুলো বলবো না। আমাদের ধারণা, ০৫ আগস্টের পরবর্তীতে হাদি খুবই ভোকাল ছিল, তার কথাবার্তা স্পষ্ট ছিল এবং একটি আদর্শকে ধারণ করে। এই আদর্শ বা ০৫ আগস্টে যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা।’

হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। এটা রাজনৈতিক কারণে হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করছি না।’

আসামিদের ফিরিয়ে আনতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। আমরা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠিক দুই ভাবেই তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে ওসমান হাদি হামলার শিকার হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি মারা যান।

হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পরিবারের সম্মতি নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর (রোববার) রাতে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা ও বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

তবে হাদির মৃত্যুর পর গত ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman