দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
নিষিদ্ধ ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণের অভিযোগে ঢাকার পিওর ফুড কোর্ট-২-এর বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বিথি সোমবার (২৪ নভেম্বর) তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন নেসলে বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডিপাল আবে বিক্রমা, পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামান এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সিস্টার কনসার্ন মেঘনা সুগার রিফাইনারির মালিক মোস্তফা কামাল।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুড ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান সোমবার দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। নেসলে’র দুজনের বিরুদ্ধে পিওর ফুড অ্যাক্ট ২০১৩-এর ধারা ২৬, ৩১, ৩৮ ও ৩৯-এর অধীনে মামলা হয়েছে। মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ধারা ২৩ ও ২৬-এর অধীনে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পরোয়ানা জারি করে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে ১৫ ডিসেম্বর।
কামরুল হাসান বলেন, “এই দুই কোম্পানি বিখ্যাত খাদ্য উৎপাদক হলেও নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করেছে।” নেসলে’র কিটক্যাট চকোলেট, কোটেড ওয়েফারে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি (২.৩২%) এবং দুধের কম ঘনত্ব পাওয়া গেছে, যা বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ডের (১% অ্যাসিডিটি সীমা) বাইরে। এছাড়া কিটক্যাটের জন্য বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই বাজারজাত করা হয়েছে। মেঘনা সুগারে সুক্রোজ ৭৭.৩৫% (ন্যূনতম ৯৯.৭%) এবং নিষিদ্ধ সালফার ডাইঅক্সাইড (০.০৮ পিপিএম) পাওয়া গেছে, যা চিনি ফুটো করার জন্য ব্যবহার হয়।
নেসলে বাংলাদেশের ডিরেক্টর (লিগ্যাল, রেগুলেটরি অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্স) দেবব্রত রায় চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কিটক্যাট চকোলেট-কোটেড ওয়েফার, এটাকে চকোলেট বা ওয়েফার বিস্কুট বলে ভুলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। বিএসটিআই-এর কোনো স্ট্যান্ডার্ড নেই এই পণ্যের জন্য। আমদানির সময় বিসিএসআইআর-এর রিপোর্টে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। ভারত ও দুবাইয়ের স্বতন্ত্র পরীক্ষায়ও স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে। কোনো নোটিশ ছাড়াই মামলা করা বিদেশি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে।”
মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, “আইনানুযায়ী আদালতে হাজিরা দেব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
এই ঘটনা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ডের অভাবে আমদানিকৃত পণ্যের পরীক্ষায় জটিলতা হয়। সিটি করপোরেশনের পরীক্ষালয় অ্যাক্রেডিটেড নয় বলে নেসলে অভিযোগ করেছে। পরবর্তী শুনানিতে এসব বিষয় তুলে ধরা হতে পারে।
