দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্যরা। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তারা নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু না করার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্তত ৬০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
রয়টার্স এবং এপি এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘এবাউট ফেস’ নামে একটি ভেটেরান সংগঠনের ব্যানারে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেসের ক্যানন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ে অবস্থান নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরোধিতা করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাবেক সেনারা বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা বা প্রতিরোধের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে, তাই এই পরিস্থিতিতে আইনপ্রণেতাদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
সিএনএন এবং আল জাজিরা এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ইরাক যুদ্ধের সময়কার প্রেক্ষাপটের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। তারা অভিযোগ করেন, অতীতের মতোই আবারও সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ প্রথমে অংশগ্রহণকারীদের স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেয়। তবে তারা অবস্থান চালিয়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগ করে তাদের সরিয়ে দেয় এবং অন্তত ৬০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে আটক করে। এরপর কংগ্রেস ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এই কর্মসূচিতে শুধু সাবেক সেনা সদস্যই নয়, বর্তমানে কর্মরত সেনাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।
বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী জনমত আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে। এতে করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চাপ বাড়তে পারে।
সাবেক সেনাদের সরাসরি বিক্ষোভে নামা বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি দেখায়, সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে শুধু সাধারণ জনগণ নয়, সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
সূত্র: Reuters, Associated Press
