লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

চীনের সঙ্গে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার

প্রকাশিত: 21 এপ্রিল 2026

8 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফররত বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গ্রেট হল অফ পিপল এ অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। তারা চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝ্যাং (Han Zheng) এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিঙ্গ (Liu Haixing) এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

রয়টার্স এবং আনাদুলু এজেন্সি এর কূটনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং রাজনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয় এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

উভয় পক্ষ কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। এ লক্ষ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক সফর বিনিময় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও কাজ করার বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি মহাসচিব চীনের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি। UN এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংকট এখনো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

এছাড়া তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে পানি শোধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সবুজ শক্তি খাতে।

স্বাস্থ্য খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রী হাসপাতাল, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে চীনের সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তারা বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয় এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথ উন্নয়নের ওপর জোর দেয়।

বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। সাম্প্রতিক এই বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশ অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায়। তবে এই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman