দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এ নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, যা কয়েক মাসের নাজুক শান্তিকে আবারও ভেঙে দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় প্রায় ৬০ হাজার নেপালি ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলার মইরাং এলাকার থ্রোনলাওবি গ্রামে এক বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় দুই শিশু নিহত হয় এবং তাদের মা গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত বিক্ষোভ শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters জানায়, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রশাসন কারফিউ জারি করে এবং বিষ্ণুপুরসহ একাধিক জেলায় ইন্টারনেট ও ডেটা সেবা বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউম্নাম খেমচাঁদ সিং শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবে মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা এখনো কমেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মণিপুরের এই সংঘাত হঠাৎ নয়, বরং দীর্ঘদিনের জাতিগত ও সামাজিক বিভেদের ফল। মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভূমি অধিকার, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈষম্য নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া সহিংসতায় ইতোমধ্যে শতাধিক মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা নেপালি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি, হামলা এবং জীবিকা হারানোর মতো সমস্যার মুখে পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মণিপুরের সংকট কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং এটি গভীর রাজনৈতিক ও জাতিগত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। দ্রুত কার্যকর সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে এই সহিংসতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সূত্র: Reuters, The Kathmandu Post
