দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বিশ্বকাপে ২৬ বছর পর ফেরা নরওয়ে শুরুটা করল দাপটের সঙ্গে। গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে ইরাককে ৪–১ ব্যবধানে হারিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি। বস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে আলোচনায় এসেছেন তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড, যিনি বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই দুইবার জাল খুঁজে নিলেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল নরওয়ে। ২৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসার নিখুঁত পাস এবং ডেভিড মোলার উলফের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোল করেন হালান্ড। তবে ইরাক বেশি সময় পিছিয়ে থাকেনি। মাত্র ১০ মিনিট পর আইমেন হুসেইনের হেডে সমতায় ফেরে এশিয়ার দলটি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবারও এগিয়ে যায় নরওয়ে। এই গোলটি আসে ইরাকের গোলরক্ষক জালাল হাসানের ভুলে। ধীরগতির ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে তার পায়ে লেগে বল চলে যায় হালান্ডের কাছে এবং সহজ সুযোগে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে মাত্র ৫১ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে ৫৭ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন হালান্ড, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।
দ্বিতীয়ার্ধে ইরাক একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও নরওয়ের রক্ষণভাগ দৃঢ় অবস্থান নেয়। ইব্রাহিম বায়েশের শট শেষ মুহূর্তে প্রতিহত হয়, আলি আল হামাদির চেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং আকাম হাশিমের ভলিও পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়।
৭৬ মিনিটে ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় নরওয়ের পক্ষে। মার্টিন ওডেগার্ডের কর্নার থেকে হেডে তৃতীয় গোল করেন লিও ওস্টিগার্ড। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নরওয়ের হাতে চলে আসে।
হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন হালান্ডও। তবে ইরাকের গোলরক্ষক জালাল হাসান দুর্দান্ত সেভ করে তাকে তৃতীয় গোল থেকে বঞ্চিত করেন। যদিও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল আসে নরওয়ের পক্ষে। হালান্ডের হেড প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার আইমেন হুসেইনের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়, যা পরে আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই জয়ে গোল ব্যবধানে গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩–১ ব্যবধানে হারিয়েছে।
গ্রুপের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২২ জুন নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ফ্রান্স। এই ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের শীর্ষস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে নিজেদের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে তুলতে শুরু থেকেই শক্ত বার্তা দিচ্ছে।
