দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও মৌলভীবাজারসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
মাঠ পর্যায়ের তথ্যে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় কোমরসমান পানির নিচে ডুবে গেছে ধানক্ষেত। কৃষকরা জীবনঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কিন্তু টানা বৃষ্টি ও সূর্যালোকের অভাবে কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না। ফলে পচনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং উৎপাদিত ধানের মানও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং ধান কাটার জন্য হারভেস্টার ও ড্রায়ার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট, কর্দমাক্ত জমি এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে এবং দ্রুত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরাঞ্চলের এই ক্ষতি দেশের মোট ধান উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ দেশের প্রায় অর্ধেক চাল আসে বোরো মৌসুম থেকে।
এদিকে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজারমূল্যে কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
