লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

এমটিএফই প্রতারণা: ৪৪ কোটি টাকা উদ্ধার

প্রকাশিত: 30 মার্চ 2026

18 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) সংশ্লিষ্ট তদন্তে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত থেকেই বৃহৎ প্রতারণা চক্রের তথ্য উঠে আসে। প্রথমে একজন ভুক্তভোগী প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করলেও তদন্তে দেখা যায়, দেশের অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

সিআইডি জানায়, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে এমটিএফই কার্যক্রম শুরু করে। ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ডলারে লাভ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো বৈধ ট্রেডিং হয়নি। নতুন বিনিয়োগ আনতে কৃত্রিমভাবে মুনাফা প্রদর্শনই ছিল চক্রটির মূল কৌশল।

প্রথমদিকে সীমিত পরিমাণ অর্থ ফেরত দিয়ে আস্থা তৈরি করা হলেও ২০২৩ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ওকেএক্সে সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থের উৎস শনাক্ত করার পর ওকেএক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনগত সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সরকারি হিসাব খুলে উদ্ধারকৃত অর্থ জমা করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সমন্বয়ের কারণে অল্প সময়ে অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।


আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman