দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামতে প্রস্তুত চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই তারা ইলিশ ধরতে নদীতে নামবেন, ফলে জেলার জেলে পাড়াগুলোতে এখন ব্যস্ততা আর আশার আমেজ।
সদর উপজেলার পুরান বাজার, রনাগোয়াল, বহরিয়া ও আনন্দ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, জেলেরা জাল মেরামত, নৌকা প্রস্তুত এবং নদীতে নামানোর শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই ঋণ করে নৌকা ও জাল ঠিকঠাক করেছেন, কারণ সামনে ইলিশ মৌসুমই তাদের প্রধান ভরসা।
জেলে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় পরিবার চালাতে কষ্ট হয়েছে। এখন ইলিশ পাওয়ার আশায় আবার নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে খোরশেদ আলম ও ফারুক গাজী জানান, নৌকা মেরামতে ঋণ নিতে হয়েছে। ইলিশ না পেলে ঋণের চাপ আরও বাড়বে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, দুই মাসের জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির ফলে এ বছর ইলিশ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, জাটকা সংরক্ষণে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি জেলেদের সহায়তায় সরকার খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। প্রতি জেলেকে চার মাসে মোট ১৬০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
তবে জেলেদের দাবি, এই সহায়তা দিয়ে পুরো পরিবার চালানো কঠিন। তাই তারা এখন ইলিশ মৌসুমের সফলতার ওপরই নির্ভর করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি প্রাকৃতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে, তাহলে এ মৌসুমে ভালো ইলিশ ধরা পড়তে পারে, যা জেলেদের স্বস্তি ফেরাতে ভূমিকা রাখবে।
