লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ইরানের পুরোনো খেলোয়াড় আবির্ভুত হয়েছেন নতুন রূপে

প্রকাশিত: 26 মার্চ 2026

38 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সামরিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির সাবেক প্রধান জেনারেল মোহসেন রেজাইকে আবারও সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও কৌশল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

ইরানের সামরিক ইতিহাসে রেজাই একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ইরান ইরাক যুদ্ধের সংকটময় সময়ে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি আইআরজিসির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় ১৬ বছর বাহিনী পরিচালনা করেন। সীমিত সামরিক সক্ষমতা নিয়েও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাকে আধুনিক ইরানি প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম স্থপতি হিসেবে দেখা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রেজাইকে ফিরিয়ে আনার পেছনে কয়েকটি কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

প্রথমত, মনস্তাত্ত্বিক বার্তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে রেজাই এমন একজন কমান্ডার হিসেবে পরিচিত, যিনি অসম যুদ্ধ কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে দক্ষ। তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য একটি শক্ত রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়। বর্তমান যুদ্ধ ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাইবার সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হলেও ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ককে আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রেজাইয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এই সমন্বয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

তৃতীয়ত, কঠোর প্রতিরোধ বার্তা। অতীতে ইসরায়েলবিরোধী কঠোর বক্তব্যের জন্য পরিচিত এই জেনারেলকে সামনে আনা ইরানের প্রতিরক্ষা অবস্থানের দৃঢ়তা তুলে ধরছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব সামরিক বাস্তবতায় এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট নজরদারি ও স্টিলথ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবুও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগত ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এখনো যুদ্ধের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। সেই জায়গায় রেজাইয়ের অভিজ্ঞতা ইরানের জন্য মূল্যবান সম্পদ হতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি ভূরাজনৈতিক বার্তা। ইরান তাদের প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্গঠন ও আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব শক্তিগুলো এখন নজর রাখছে, এই কৌশলগত পরিবর্তন অঞ্চলকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে নাকি কূটনৈতিক ভারসাম্যের নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।

সূত্র: Reuters বিশ্লেষণ

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman