দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরাক সরকার দেশের সব সামরিক ইউনিটকে সরাসরি পাল্টা হামলার অনুমতি দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ পরিষদের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো সামরিক ঘাঁটি বা বাহিনীর ওপর হামলা হলে কেন্দ্রীয় কমান্ডের অনুমতির অপেক্ষা ছাড়াই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
বুধবার আলহুররাকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে সেনাবাহিনীসহ পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নিজ বিবেচনায় হামলার জবাব দিতে পারবে। আগে কোনো অভিযান বা প্রতিক্রিয়ার আগে জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের অনুমোদন প্রয়োজন হতো।
মঙ্গলবার পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিমান বা ড্রোন হামলাসহ যেকোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে “আত্মরক্ষা ও জবাব দেওয়ার অধিকার” প্রয়োগ করতে পারবে নিরাপত্তা বাহিনী। আনবার প্রদেশে পিএমএফ সদর দপ্তরে হামলায় অন্তত ১৫ যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে প্রদেশটির পিএমএফ অপারেশন কমান্ডারও ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, সুদানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন, তবে পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য নির্দেশনার পক্ষে মত দেন।
এদিকে ইরাকি সেনা অবস্থানে ধারাবাহিক বিমান হামলার ঘটনাও ঘটছে। বুধবার পশ্চিম ইরাকের হাব্বানিয়া সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা ও পরবর্তী গুলিবর্ষণে সাত সেনা নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড প্রথমবারের মতো আনবারে পিএমএফ লক্ষ্য করে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। যদিও এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরাক ক্রমেই প্রক্সি সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। দেশজুড়ে মার্কিন স্বার্থ, সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইরাক সরাসরি আঞ্চলিক সংঘাতের ময়দানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: Alhurra
