দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হয়ে উঠেছে ইরানের তথাকথিত “মিসাইল সিটি” বা ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো আদৌ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে কি না। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিটি মিসাইল সিটি কমপ্লেক্স প্রায় ৮ কিলোমিটার লম্বা ও ২.৫ কিলোমিটার প্রশস্ত এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এগুলো বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষিত। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র শুরুতে মূল আঘাত হানে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর, যাতে আকাশপথ আক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়।
তবে মূল অবকাঠামো ভূগর্ভে প্রায় ৫০০ মিটার গভীরে কঠিন পাথরের ভেতরে নির্মিত হওয়ায় সেগুলো প্রায় অক্ষত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ব্যবহৃত ৫ হাজার পাউন্ড ওজনের কংক্রিট বিধ্বংসী বোমা কিংবা শক্তিশালী GBU-57A/B ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (MOP) বোমাও মূল টানেল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম নয়। সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে প্রবেশপথ ধ্বংস বা কিছু অংশ ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভূপৃষ্ঠের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত দেখাতে পারলেও ভূগর্ভে লুকানো ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন ব্যবস্থার বড় অংশ সক্রিয় অবস্থায় থেকে যেতে পারে। অর্থাৎ প্রতিশোধমূলক হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি।
এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই প্রবেশপথ বারবার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়তে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে দৃশ্যমান সাফল্য এবং বাস্তব সামরিক সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
