দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আন্তর্জাতিক সাময়িকী দি ইকোনোমিস্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান আক্রমণ সংক্রান্ত দাবিকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে “ইরানের সামরিক সক্ষমতার ১০০ শতাংশ ধ্বংস” করা হয়েছে। তবে দি ইকোনোমিস্ট কটাক্ষ করে লিখেছে, এই ধ্বংসের পর অবশিষ্ট ০ শতাংশই বিশ্ব তেলের সরবরাহে ১০–১৫ শতাংশের ব্যাঘাত ঘটাতে সক্ষম হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থির করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দেখাচ্ছে ইরানের অসামান্য যুদ্ধ কৌশল কতটা কার্যকর। সরাসরি সামরিকভাবে শক্তিশালী না হলেও তারা আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বিশ্ব তেলের বড় অংশের সরবরাহকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই প্রণালী ব্যবহার করে পৃথিবীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। সংঘাতের কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের ফলাফল শুধু সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্র-নৌপথে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হচ্ছে।
দি ইকোনোমিস্ট ‑এর মন্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়, আধুনিক যুদ্ধ কেবল সামরিক বিজয় দিয়ে শেষ হয় না। শত্রুর সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হলেও, যদি তারা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে তাদের অবশিষ্ট ক্ষমতা বিশ্ব মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারে।
