দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের গণমাধ্যম খাতে অবিলম্বে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার: গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইআরএফ এবং সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। অনুষ্ঠানে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, এখন বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। তিনি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন পুনর্গঠন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। ব্রিটিশ মডেলের আদলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতে একটি কাঠামো তৈরি, সাংবাদিকদের অবসর সুবিধা, বয়সসীমা ও পেনশন কাঠামো পর্যালোচনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। পাশাপাশি পত্রিকার প্রচারসংখ্যায় স্বচ্ছতা আনা এবং সুস্পষ্ট বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি জানান, সম্পাদক পরিষদ, টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন ও ডিজিটাল যোগাযোগ খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক তথ্য প্রতিযোগিতার যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা নতুনভাবে নির্ধারিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় ইআরএফ ও সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার’ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও অর্থায়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা প্রায়ই আর্থিক সংকট ও অবমূল্যায়নের মুখে পড়েন। নতুন এই অংশীদারিত্ব স্থানীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে সহায়তা করবে।
সরকারের ঘোষিত গণমাধ্যম সংস্কার বাস্তবায়ন হলে সাংবাদিক সুরক্ষা ও নীতিগত স্বচ্ছতায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সংস্কারের কার্যকর ফল নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ ও অংশীজনদের অংশগ্রহণের ওপর।
