দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঘন বসতিপূর্ণ নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সবুজ জায়গা সংকটের যুগে একটি কার্যকর পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে ‘মিয়াওয়াকি বন’ পদ্ধতি। জাপানের প্রখ্যাত উদ্ভিদবিদ আকিরা মিয়াওয়াকি উদ্ভাবিত এই কৌশলে খুব অল্প জায়গায় অল্প সময়ে ঘন, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বন তৈরি করা সম্ভব।
মিয়াওয়াকি বন মূলত স্থানীয় বা দেশীয় গাছ ও ঝোপঝাড় ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। প্রতি বর্গমিটারে তিন থেকে পাঁচটি গাছ লাগানো হয়, যাতে গাছগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং দ্রুত উচ্চতার বৃদ্ধি ঘটে। ঝোপ, ছোট গাছ, মাঝারি গাছ ও ছায়াদানকারী বড় গাছ এই চার স্তরের কাঠামো অনুসরণ করে বনটি প্রাকৃতিক বনভূমির মতো গড়ে ওঠে।

এই পদ্ধতিতে মাটির বিশেষ প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জৈব উপাদান, কম্পোস্ট ও জৈব সার মিশিয়ে মাটিকে ঝুরঝুরে ও উর্বর করা হয়। ফলে গাছের শিকড় দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সাধারণ বন যেখানে পরিপক্ব হতে শত বছর লাগে, সেখানে মিয়াওয়াকি বন মাত্র ২০ থেকে ৩০ বছরে পূর্ণতা পায়। অনেক ক্ষেত্রে গাছ ১০ বছরের মধ্যেই ১০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
মিয়াওয়াকি বনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি দুই থেকে তিন বছর পর প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন নিয়মিত পানি দেওয়া বা আগাছা পরিষ্কারের প্রয়োজন থাকে না। কার্বন শোষণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং শহরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

এটি একটি স্বয়ংস্বপূর্ন বন হিসেবে গড়ে ওঠে অল্প দিনেই এবং নিজেই তার নিজের ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলে। এর ফলে বনের স্থায়ীত্ব বাড়ে, জীববৈচিত্র বাড়ে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষিত হয়।
জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে শিল্প এলাকা, স্কুল প্রাঙ্গণ, পার্ক, পরিত্যক্ত জমি এমনকি ছাদেও মিয়াওয়াকি বন তৈরি করা হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরের জন্য এটি দ্রুত সবুজায়নের এক বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
