দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পশ্চিমবঙ্গে অননুমোদিত মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শনে অবকাঠামোগত ঘাটতি, নির্ধারিত পাঠক্রম অনুসরণ না করা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অসংগতি পাওয়া যাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর চলতি বছরের জুনে রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষার উদ্যোগ নেয়। জেলা প্রশাসনকে স্বীকৃত ও অননুমোদিত উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অবস্থান, প্রতিষ্ঠার বছর, নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর সংখ্যা এবং পরিচালনার ধরনসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম ও অবকাঠামো সরেজমিনে যাচাই করা হয়। জুলাইয়ে রাজ্যের ১২টি জেলায় অননুমোদিত ও অনুদানবিহীন মাদ্রাসাগুলো পরিদর্শনের জন্য আলাদা নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থার মান নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলছে কি না তা যাচাই করাই ছিল এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক পরিদর্শনে যেসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ বা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই এবং নির্ধারিত পাঠক্রম থেকে উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি রয়েছে বলে প্রশাসন মনে করেছে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি যেসব মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য না হলে সেসব প্রতিষ্ঠানেও পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরপরই রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলোর নিবন্ধন, পরিচালনা ও আইনগত অবস্থান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়ায় বিরোধীদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয় বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইনগত অবস্থান, অবকাঠামো ও শিক্ষার মান যাচাইয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন জেলায় স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসার তথ্য রয়েছে। বোর্ডের নথিতেও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত নিয়ম ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর উল্লেখ রয়েছে।
রাজ্য সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরও জানিয়েছে, তাদের দায়িত্বের মধ্যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত। ফলে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি বৈধভাবে পরিচালিত স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ওপর। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে তাদের বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রশাসনিক নিয়ম মানানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে হঠাৎ বন্ধ না হয় সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত।
