দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের ফেনী সফর স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তিনি ফেনী সফর করতে পারেন বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে ঘিরে এর আগে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তারা সভাস্থল, সড়ক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যেও ১৭ সেপ্টেম্বর সফরের প্রস্তুতি এবং কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
নতুন সূচি অনুযায়ী সফরটি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হলে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি গত ১৬ জুন প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের পুনর্বাসন কাজ অনুমোদন করে।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এ দাবির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এর আগে পরশুরামে সভামঞ্চ ও উদ্বোধনী ফলক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সম্ভাব্য আকাশপথে যাতায়াতের কথা বিবেচনায় নিয়ে পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণ এবং ফেনী-পরশুরাম সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলছিল।
ফুলগাজীতেও সফর ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে পরিবার কার্ড বিতরণের কর্মসূচি রাখা হয়েছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে একযোগে কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর ৭ হাজার কৃষক কার্ড বিতরণের কথা জানানো হয়েছিল।
এ ছাড়া ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ, ধর্মীয় নেতাদের সহায়তা প্রদান, অসুস্থ ও অসচ্ছল মানুষের আর্থিক সহায়তা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার কর্মসূচিও প্রস্তাবিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নানার বাড়ি পরিদর্শন এবং প্রয়াত স্বজনদের কবর জিয়ারতের কর্মসূচিও সফর পরিকল্পনায় ছিল।
তবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া প্রকাশ্য আন্তর্জাতিক ও সরকারি উৎসে সফর স্থগিতের নতুন সিদ্ধান্তের আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। ফলে অক্টোবরের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পাঠানো তথ্য অনুযায়ী ১ অক্টোবরের সম্ভাব্য তারিখের কথা উল্লেখ করা হলেও এটিকে চূড়ান্ত সূচি হিসেবে বিবেচনা করার আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।
