লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রোজার শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের দাম, চাপে ক্রেতারা

প্রকাশিত: 20 ফেব্রুয়ারী 2026

32 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রমজানের প্রথম শুক্রবারে সাপ্তাহিক বাজার ও ইফতারের বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মাছ–মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সোনালি মুরগি, গরুর মাংস ও মাঝারি মানের কয়েকটি মাছের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি মুরগি বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ টাকা। লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় রয়েছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ আকারভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়া।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। কয়েকদিনের ঊর্ধ্বগতির পর কিছু কাঁচামালের দাম কিছুটা কমেছে। কুমড়া ১৬ থেকে ২০ টাকা, মুলা ১২ থেকে ২০ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ টাকায় নেমেছে।

অন্যদিকে রোজার প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বেগুন ৭০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ১২০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাসেল বলেন, রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরও এক ধাপ ওপরে উঠে গেছে। সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বনশ্রী এলাকার গৃহিণী রহিমা বলেন, আয় না বাড়লেও প্রতি সপ্তাহে খরচ বাড়ছে।

বিক্রেতারা অবশ্য মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, রমজান, বিয়ে ও ইফতার আয়োজনের কারণে সোনালি মুরগির চাহিদা বেড়েছে। খামার পর্যায়েই দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়ছে। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহণ ব্যয় ও পাইকারি বাজারে উচ্চ দামের কারণে খুচরা বাজারে দাম বেশি রাখতে হচ্ছে।

ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের সমান।

রমজানের শুরুতেই বাজারে চাপ তৈরি হওয়ায় পুরো মাসজুড়ে দামের গতিপ্রকৃতি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ক্রেতারা। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে রোজার মাঝামাঝি সময়ে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman